আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে-সকল দৈহিক শক্তি দান করেছেন যথা-দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, চলৎশক্তি প্রভৃতি তার প্রত্যেকটিই মানবের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য যেমন অপরিহার্য; ঠিক তদ্রূপ আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে সকল মানসিক শক্তি দান করেছেন, তারও প্রত্যেকটি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে-সকল দৈহিক ও মানসিক শক্তি দান করেছেন ঐগুলি নির্গুণ-শক্তি বিশে......
যখন খালেক ও মালেক আল্লাহ রব্বুল আলামীন পৃথিবীতে এমন এক মাখলুক সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করলেন-যারা অন্যান্য মাখলুকের ন্যায় আব্দে-মহজ বা নিছক দাস হিসেবে কেবলমাত্র আওয়ামেরে তাকবীনিয়ার মধ্যে দাখিল থাকবে না বরং তারা আহকামে তাকলীফিয়ারও দায়িত্বভার গ্রহণকারী হবে, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে সম্বোধন করে বললেন:
اِنِّي جَاعِلٌ فِي الْاَرْضِ خَلِيفَةً - (سورة البقرة :٢٠(
অর্থাৎ-'আমি পৃথিবীতে খলীফা......
আল্লাহ তায়ালার বিধানসমূহ দুইভাগে বিভক্ত। ১.আওয়ামেরে তাকবীনিয়া (اوامر تکوینیه) অর্থাৎ সৃষ্টিগত-বিধান বা সৃজনপালন-বিধান ২. আহকামে তকলীফিয়া (احکام تکلیفیہ)অর্থাৎ স্বেচ্ছায় প্রতিপালনীয় শরয়ী বিধান।
আল্লাহ তায়ালার যে-সকল নিয়ম-বিধান পালন করার ব্যাপারে বান্দার কোন এখতিয়ার নাই বরং তিনি যে-সকল আওয়ামের বা হুকুম দিয়া তাঁর সৃষ্টিজগতকে পরিচালনা করেন-যা মাখলুক সৃষ্টিগতভাবেই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় মেনে চলত......
“আদত” (عادت) মানে অভ্যাস।
সৃষ্টিগত স্বভাবের সঠিক বা ভুল ব্যবহারের ফলে সচ্চরিত্র বা অসচ্চরিত্র তৈরি হয়।
প্রথমে এটা সহজে পরিবর্তন হয়, কিন্তু একবার অভ্যাসে পরিণত হলে পরিবর্তন কঠিন হয়। বলা হয়— اَلْعَادَةُ طَبْعِيَّةٌ ثَانِيَة “অভ্যাস মানুষের দ্বিতীয় স্বভাব।”তবে অভ্যাস পরিবর্তন অসম্ভব নয়— শুধু শক্ত ইচ্ছা, পরিশ্রম ও মুজাহাদা দরকার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়,......
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুই ধরনের শক্তি দান করেছেন দৈহিক শক্তি ও মানসিক শক্তি। এই দুই ধরনের শক্তিই আসলে নিরপেক্ষ। এগুলো না ভালো, না মন্দ; বরং কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এগুলো ভালো বা মন্দ হওয়া।
যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে “আখলাকে হামিদা” (اخلاق حميده) বা সচ্চরিত্র সৃষ্টি হয়, আর যদি অপব্যবহার করা হয়, তাহলে “আখলাকে রযীলা” (اخلاق رذيله) বা অসচ্......
মানুষের জিবিল্লী খাসলত (অর্থাৎ জন্মগত স্বভাব) পরিবর্তন হয় না, কিন্তু আখলাক বা চরিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব এবং আদত বা অভ্যাসও চেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে বদলানো যায়। এজন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের “তাহযীবুল আখলাক” (تهذیب اخلاق) — চরিত্র গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: حَسِّنُوا أَخْلَاقَكُمْ
“তোমরা তোমাদের চরিত্র সুন্দর করো।”......
প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ তায়ালা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সেই সময় পর্যন্ত মানুষকে এই দুনিয়া, অর্থাৎ আলমে নাসূতে থাকতে হবে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দুনিয়ায় কেন পাঠিয়েছেন?
এর কারণ হলো— মানুষ যেন আহকামে তকলীফিয়া (احکام تکليفیة) বা স্বেচ্ছায় পালনীয় বিধানগুলো পালন করে “আশরাফুল মাখলুকাত” (أَشْرَفُ الْمَخْلُوقَاتُ) বা সৃষ্টির সেরা হিসেবে মর্য......
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক। দরুদ ও সালাম প্রেরিত হোক তাঁর রসূল মুহাম্মদ ﷺ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামদের ওপর।
১. দ্বীনি শিক্ষা ও চরিত্র গঠন
যদি আমরা মনে করি যে শুধু দ্বীনী শিক্ষা গ্রহণ করাই আমাদের দায়িত্ব, আর চরিত্র গঠন আমাদের কাজ নয় তাহলে আমরা বড় ভুল করব। কারণ, দ্বীন শিক্ষা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমল করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই আসল উদ্দেশ্য।
যে উ......