আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে-সকল দৈহিক শক্তি দান করেছেন যথা-দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, চলৎশক্তি প্রভৃতি তার প্রত্যেকটিই মানবের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য যেমন অপরিহার্য; ঠিক তদ্রূপ আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে সকল মানসিক শক্তি দান করেছেন, তারও প্রত্যেকটি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে-সকল দৈহিক ও মানসিক শক্তি দান করেছেন ঐগুলি নির্গুণ-শক্তি বিশেষ; অর্থাৎ মূলতঃ তা নেকও নয় আবার বদও নয়। সেগুলো ভাল হওয়া অথবা মন্দ হওয়া মানুষের সদ্ব্যবহার ও অসদ্ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল। যদি আল্লাহপাকের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ সকল নির্গুণ শক্তিসমূহের সদ্ব্যবহার করা হয়, তাহলেই হয় নেকী ও আল্লাহর ফরমাবরদারী। পক্ষান্তরে যদি আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে ঐ সকল নির্গুণ শক্তিসমূহের অপব্যবহার করা হয়, তাহলে হয় বদী ও আল্লাহর নাফরমানী।
এইজন্যই রসূলে আকরাম এরশাদ ফরমাইয়াছেন:
مَا مِنْ مَوْلُودٍ اِلَّا يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ  فَاَبَوَاهُ  يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِه أَوْ يُمَجِّسَانِهِ)     متفق عليه (
অর্থাৎ-'প্রত্যেক মানবশিশুই স্বাভাবিক অবস্থার উপরে জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদ, নাসারা অথবা মজুছীরূপে গড়ে তোলে।' (বুখারী ও মুসলিম; মেশকাত: হা. নং-৯০)
আলোচিত বিষয়টি একটি উদাহরণ দ্বারা বুঝিয়ে দিতেছিঃ ধরা যাক, একজন বাদশাহ তার কতিপয় আমলাকে ডেকে বললেন-'আমি তোমাদের মধ্য হইতে একজনকে অমুক দেশের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য আমার প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করতে চাই। তোমাদের মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায় এই দায়িত্বভার বহন করতে রাযী আছ কি?' সকলেই দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নিজেদের অক্ষমতা ও অসমর্থতা জ্ঞাপন করল। কিন্তু একটি উচ্চাভিলাষী আমলা এই গুরুদায়িত্ব বহন করতে স্বেচ্ছায় রাযী হল।
বাদশাহ উক্ত আমলাকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে দিলেন এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যে-সকল উপকরণ ও শক্তি প্রয়োজন, উহা তাহাকে দান করে কর্মক্ষেত্রে পাঠালেন। কর্মক্ষেত্রে পৌঁছার পরে উক্ত আমলা যদি বাদশাহের নিকট হতে প্রাপ্ত উপকরণ ও শক্তিসমূহকে বাদশাহের নির্দেশ অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের জন্য ব্যবহার করে, তাহলে তা হবে তার নেমক-হালালী, ন্যায়পরায়ণতা ও ফরমাবরদারী। পক্ষান্তরে উক্ত আমলা যদি বাদশাহের নির্দেশের খেলাফ করে তাঁর নিকট হতে প্রাপ্ত উপকরণ ও শক্তিসমূহের অপব্যবহার করে, তা হবে তার নেমক-হারামী ও বাদশাহের নাফরমানী।
                                                           (সূত্র : তামীরে আখলাক: ৬ষ্ঠ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা: ২৪;২৫)