আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুই ধরনের শক্তি দান করেছেন দৈহিক শক্তি ও মানসিক শক্তি। এই দুই ধরনের শক্তিই আসলে নিরপেক্ষ। এগুলো না ভালো, না মন্দ; বরং কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এগুলো ভালো বা মন্দ হওয়া।
যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে “আখলাকে হামিদা” (اخلاق حميده) বা সচ্চরিত্র সৃষ্টি হয়, আর যদি অপব্যবহার করা হয়, তাহলে “আখলাকে রযীলা” (اخلاق رذيله) বা অসচ্চরিত্র তৈরি হয়।
যেমন: “হুব্ব” (حب) বা অনুরাগ যদি ইসলামী দৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে হুব্বুল্লাহ (খোদাপ্রেম), হুব্বে রসূল (নবীপ্রেম), হুব্বে দ্বীন (ধর্মানুরাগ) তৈরি হয়।
কিন্তু যদি অপব্যবহার হয়, তাহলে হুব্বে দুনিয়া (দুনিয়ার প্রেম), হুব্বে মাল (ধনলোভ), হুব্বে জাহ্ (সম্মানলালসা) ইত্যাদি অসদগুণ তৈরি হয়।
“এহসাসে বরতরী” বা উচ্চমন্যতা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আত্মমর্যাদা, আত্মনির্ভরতা, বীরত্ব তৈরি হয়।
কিন্তু অপব্যবহার করলে অহংকার (كبر), গর্ব (فخر), আত্মগর্ব (عجب) ইত্যাদি সৃষ্টি হয়।
“এহসাসে কমতরী” বা হীনমন্যতা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নম্রতা (تواضع) ও বিনয় (فروتنى) জন্মায়।
কিন্তু অপব্যবহার করলে কাপুরুষতা ও হীনতা তৈরি হয়।
অতএব, জিবিল্লী খেসালের সঠিক ব্যবহার আখলাকে হামিদা সৃষ্টি করে, আর অপব্যবহার আখলাকে রযীলা জন্ম দেয়।
(সূত্র : তামীরে আখলাক: ৬ষ্ঠ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা: ১২,’১৩,১৪)
মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন
এখনও কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!