সমস্ত  প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক। দরুদ ও সালাম প্রেরিত হোক তাঁর রসূল মুহাম্মদ ﷺ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামদের ওপর।
১. দ্বীনি শিক্ষা ও চরিত্র গঠন
যদি আমরা মনে করি যে শুধু দ্বীনী শিক্ষা গ্রহণ করাই আমাদের দায়িত্ব, আর চরিত্র গঠন আমাদের কাজ নয় তাহলে আমরা বড় ভুল করব। কারণ, দ্বীন শিক্ষা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমল করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই আসল উদ্দেশ্য।
যে উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য দ্বীনের জ্ঞান নেওয়া হয়, সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ না হলে শুধুমাত্র জ্ঞান অর্থহীন হয়ে যায়। এজন্যই বলা হয়েছে
اَلْعِلْمُ بِلَا عَمَلٍ كَالشَّجَرِ بِلاَ ثَمَرٍ و كالسحاب بلا مطر
অর্থাৎ“আমলহীন জ্ঞান ফলহীন গাছ বা বৃষ্টিহীন মেঘের মতো নিরর্থক।”
রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الأَخْلَاقِ (বাইহাকি)
অর্থাৎ “আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্য।”
তাহলে দেখা যায়, চরিত্র গঠনই নবীজির ﷺ প্রেরণের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
উলামায়ে কেরাম, বিশেষত যারা দ্বীনের শিক্ষা দেন, তারা নবীজির প্রতিনিধি ও উত্তরসূরি। তাই নবীজির প্রতিনিধি হিসেবে তাদের শুধু দ্বীনের শিক্ষা দেওয়াই নয়, ছাত্রদের চরিত্র গঠনের প্রতিও মনোযোগী হওয়া জরুরি।
যদি আমরা ছাত্রদের চরিত্র ঠিক না রেখে শুধু দ্বীনের জ্ঞান দিই, তাহলে তা উপকারের বদলে ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।
একজন কবি খুব সুন্দরভাবে বলেছেন—
بے ادب را علم و فن آموختن
دادن تيغ است دست راهزن
(উচ্চারণ: বে আদব রা ইলম ও ফন আমূখতান, দা দান তেগ আস্ত দস্তে রাহযান।)
অর্থ: “যে মানুষ চরিত্রহীন, তাকে বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া মানে যেন ডাকাতের হাতে তরবারি তুলে দেওয়া।”
তাই দ্বীনের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি চরিত্র গঠনের প্রতিও আমাদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যদি আমরা এই দায়িত্বে অবহেলা করি, তবে আমাদেরকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে।

একটি সংশয়ের নিরসন
এখানে এক ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে—
হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
 إِذَا سَمِعْتَم بِجَبَلٍ زَالَ عَنْ مَكَانِهِ فَصَدِّقوهُ، وَإِذَا سَمِعْتَم بِرَجُلٍ تَغَيَّرَ عَنْ خُلُقِهِ فَلا تُصَدِّقوا به»  (احمد، مشكاة-123)
“যখন তোমরা শুনবে যে কোনো পাহাড় তার জায়গা থেকে সরে গেছে, তখন তা বিশ্বাস করো; কিন্তু যদি শুনো যে কোনো মানুষের স্বভাব পরিবর্তন হয়ে গেছে, তবে তা বিশ্বাস করো না।” (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত-১২৩)
এখন প্রশ্ন হলো, যদি মানুষের স্বভাব পরিবর্তন না হয়, তাহলে চরিত্র গঠনের জন্য চেষ্টা করেই বা লাভ কী?
এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—
মানুষের জিবিল্লী খাসলত (অর্থাৎ জন্মগত স্বভাব) পরিবর্তন হয় না, কিন্তু আখলাক বা চরিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব এবং আদত বা অভ্যাসও চেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে বদলানো যায়।          
                                                           (সূত্র : তামীরে আখলাক: ৬ষ্ঠ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা: ৭,৮)