মানুষের জিবিল্লী খাসলত (অর্থাৎ জন্মগত স্বভাব) পরিবর্তন হয় না, কিন্তু আখলাক বা চরিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব এবং আদত বা অভ্যাসও চেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে বদলানো যায়। এজন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের “তাহযীবুল আখলাক” (تهذیب اخلاق) — চরিত্র গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: حَسِّنُوا أَخْلَاقَكُمْ
“তোমরা তোমাদের চরিত্র সুন্দর করো।” (এহইয়ায়ে উলূমুদ্দীন)
আরও বলেছেন:
إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَيَّ وأَقربكم مني مجلسا يوم القيامة إِلَيَّ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا
“তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর, সে-ই কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকবে।” (তিরমিযী, হাদীস নং ২০১৮)
চরিত্র গঠনে সহায়ক ছয়টি বিষয়:
১. উপদেশ প্রদান:
আল্লাহ বলেন,
وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ
“উপদেশ দাও, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।” (সূরা যারিয়াতঃ ৫৫)
তাই নিয়মিত উপদেশ চরিত্র গঠনে সহায়ক।
২. উত্তম বই পড়ায় উৎসাহ:
বুযুর্গদের জীবনী ও উপদেশভিত্তিক বই পড়তে উৎসাহিত করা, আর খারাপ উপন্যাস-নাটক বর্জন করা উচিত।
৩. সালেহীনের সাহচর্য: ভালো মানুষদের সঙ্গ নাও। যেমন প্রবাদ—
الصُّحْبَةُ مُؤثِرَةٌ
“সঙ্গ খুব প্রভাবশালী।” দুষ্ট বন্ধু সাপের চেয়েও ক্ষতিকর, আর সৎ বন্ধু জান্নাতের পথে নিয়ে যায়।
৪. উস্তাদ অনুকরণীয় হওয়া: ছাত্ররা উস্তাদের অনুকরণ করে। তাই উস্তাদ যদি চরিত্রবান না হন, তবে ছাত্রও চরিত্রবান হতে পারে না।
৫. উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের উপর জন্মায়, পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদি, নাসারা বা মজুসি বানায়।”
(বুখারী ও মুসলিম)
তাই সচ্চরিত্র গঠনের জন্য ভালো পরিবেশ অপরিহার্য।
৬. অপরাধ দমনে ব্যবস্থা নেওয়া:
চরিত্র সংশোধনের জন্য প্রয়োজন হলে শাস্তি দেওয়া বৈধ। ইসলামে নৈতিক অপরাধের কঠোর শাস্তি এর প্রমাণ। তাই শুধুমাত্র শিক্ষা নয়, চরিত্র সংশোধনেও শাস্তির প্রয়োগ দরকার।
(সূত্র : তামীরে আখলাক: ৬ষ্ঠ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা: ১৫,১৬)
মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন
এখনও কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!